বাসের সংরক্ষিত নারী আসনে বসলেই জেল-জরিমানা

রাজধানীর বিভিন্ন গণপরিবহনে নারী যাত্রীদের আসনে বসা নিয়ে হরহামেশা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। দেখা যায়, নারীর জন্য সংরক্ষিত আসনে পুরুষ যাত্রী বসে আছেন। কিছু বললেও তারা কর্ণপাত করেন না। এতে অনেকে বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েই গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও কিছু পুরুষ যাত্রীকে অনুরোধ করলে তারা আসন ছেড়ে দেন।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-তে গণপরিবহনে মহিলা, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং বয়োজ্যেষ্ঠ যাত্রীর জন্য সংরক্ষিত আসনে অন্য কোনো যাত্রী বসলে এক মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান উল্লেখ রয়েছে। আইনটি ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়। অথচ আইনের এই বিধান সম্পর্কে গণপরিবহনের যাত্রীসহ বাসের হেলপার, চালক কারোরই সঠিক ধারণা নেই।

চালকদের একজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আইন তো আছে শুনছি কিন্তু যাত্রীরা তো সচেতন নয়।’ আইনে নারী আসনে পুরুষ যাত্রী বসলে শাস্তির বিধান কী, জানতে চাইলে তিনি জানান, সঠিক ধারণা নেই।

বাসের এক হেলপারকে জিজ্ঞেস করতেই বললেন, ‘যাত্রীদের বলার পরও শুনতে চায় না। আবার অনেকে নিজে থেকেই নারী যাত্রী দেখলে উঠে যান। তাই আমার কাছে মনে হয়, নারী যাত্রীদের সিটে বসার অধিকারকে যদি পুরুষরা সহজভাবে মেনে নেয় তাহলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

পল্টন মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষারত বেসরকারি চাকরিজীবী শারমিন আক্তার বলেন, ‘বেশ কিছুক্ষণ ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। যে ভিড় উঠতেই ইচ্ছা করছে না। বাসে উঠলে তো আর সিট পাওয়া যায় না। উত্তরা যাওয়ার পথও তো কম নয়।’

আক্ষেপ করে বলেন, ‘কিছু পুরুষ যাত্রী আছেন, যারা নারীদের সিটে বসে পড়েন। বলার পরও উঠতে চান না। বাসের ড্রাইভার, হেলপার ও সুপারভাইজার বললেও তারা শুনতে কিংবা মানতে চান না। মনে হয়, জোর করেই তারা নারীদের সিটে বসে থাকবেন। সত্যিই এটা ভাবতেই নিজের কষ্ট হয়।’

নারী অধিকারকর্মী ও ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’র নির্বাহী সমন্বয়কারী জিনাত আরা হক বলেন, ‘বাসে যতগুলো সিট আছে সেগুলোতে সমানভাবে নারী-পুরুষের বসার সুযোগ আছে। যে কয়টি বিশেষ সিটের উল্লেখ রয়েছে সেগুলোতে নারীরাই বসবে। কিন্তু আমরা খেয়াল করলে দেখব, একটি বাসে যেন ওই নয়টি আসনেই নারীরা বসতে পারবেন, এ বিষয়টি ঠিক নয়। এজন্য যাত্রীসহ বাসের চালক-হেলপারকে আগে সচেতন হতে হবে এবং বাসচালকদের বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তাহলে নারীর সিটে বসা নিয়ে ভোগান্তি হবে না বলে মনে করছি।’

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে প্রতিনিয়ত বাসচালক-হেলপারদের নির্দেশনা দিয়ে থাকি। কিন্তু দেখা যায় পুরুষ যাত্রীরা অনেক সময় মানতে চান না, আবার নারী যাত্রীর সিটেই বসে থাকেন। এ বিষয়টি সমাধানে বাসচালক-হেলপারসহ পুরুষ যাত্রীদের সচেতন হতে হবে।’

About অনলাইন ডেস্ক

View all posts by অনলাইন ডেস্ক →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *