ধর্মান্তরি’ত করে বি’য়ে,ত’বু স্ত্রীর মর্যা’দা দেননি ক্যাডা’র কর্মকর্তা

ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার পরও স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিচ্ছেন না প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। পদে পদে করেছেন শুধু অবজ্ঞা আর অবহেলা।

স্ত্রীর ভালো-মন্দের খোঁজ নেওয়া তো দূরের কথা, গোপনে তালাক পর্যন্ত দিয়েছেন। আবার চাকরি রক্ষার্থে তালাক দেওয়া স্ত্রীকে নিজের গ্রামের বাড়িতে পিতামাতার জিম্মায় রেখেছেন। চরম অসদাচরণের মতো গুরুতর এমন অপরাধ করেছেন সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইউসুফ। যিনি বর্তমানে গোপালগঞ্জ ডিসি কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার পদে কর্মরত।

প্রশাসন ক্যাডারের ৩৭তম বিসিএসের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তার ভুক্তভোগী স্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

গত রবিবার কমিটির জমা দেওয়া রিপোর্টে বিচার্য বিষয়ের তিনটি অভিযোগই প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, শিগগির তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে।

ভুক্তভোগী নারীর গ্রামের বাড়ি বগুড়া। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ইডেন মহিলা কলেজে লেখাপড়া শেষ করেন। ২০১৩ সালে ইউসুফের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে এক পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মোহাম্মদ ইউসুফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করে প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে চাকরিতে যোগ দেন। পরে ২০১৮ সালে ৩৬তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে চাকরির সুযোগ পান। পুলিশে চাকরিরত অবস্থায় পুনরায় তিনি ৩৭তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন।

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর তাকে ঢাকা কালেক্টরেটে প্রথম পোস্টিং দেওয়া হয়। পরে তিনি পোস্টিং পান গোপালগঞ্জ ডিসি কার্যালয়ে।

এর আগে ইউসুফ তার প্রেমিকাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেন ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট। শিক্ষা প্রকল্পে কর্মরত থাকাবস্থায় ২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের কর্মস্থলে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ৪ লাখ টাকা কাবিনে মুসলিম রীতিতে পুনরায় বিয়ে করেন।

এ বিয়ের অনুষ্ঠানে ইউসুফের বাবা, মা, বোন, বোন জামাই, নানু এবং মামাতো বোনসহ পরিবারের আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। অথচ বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় ২০২০ সালের ১৮ ডিসেম্বর ডিসির কাছ থেকে মৌখিক ছুটি নিয়ে ঢাকায় এসে স্ত্রীকে ডিভোর্স লেটার পাঠান ইউসুফ। যদিও ওই ডিভোর্স লেটার স্ত্রী গ্রহণ করেননি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউসুফ বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে আমি অনেক আগে তালাক দিয়েছি। তালাকের পর তিনি আমার পিরোজপুরের গ্রামের বাড়িতে ছিলেন না। ঢাকায় চলে আসেন। এছাড়া গত ১ মার্চ দেনমোহরের ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। টাকা পরিশোধসহ এ বিষয়ে একটি আপস-মীমাংসাও হয়েছে। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী তার বাবার সঙ্গে চলে গেছেন।’
সূত্র: যুগান্তর

About অনলাইন ডেস্ক

View all posts by অনলাইন ডেস্ক →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *