যোগদানের ‘পর’ থেকেই চুরি শুরু ‘৭০ লাখে’ এসে ‘ধরা’

নড়াইল সদর হাসপাতা’লের বিভিন্ন খাত থেকে ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অ’ভিযোগ উঠেছে হাসপাতা’লের হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম লাকির বি’রুদ্ধে। গতকাল হাসপাতা’লের তত্ত্বাবধায়ক নিজেই ব্যাংকে গিয়ে এ ঘটনা জানতে পারেন। পরে তাকে তিন দিনের মধ্যে আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অ’ভিযু’ক্ত হিসাবরক্ষককে পরবর্তীতে ইউজার ফি জমা দেওয়ার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।






সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাহান আরা খানম লাকি ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই নড়াইল সদর হাসপাতা’লে হিসাবরক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই হাসপাতা’লের রোগী ভর্তি ফি, অ’পারেশান থিয়েটার, বহিঃ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা ফি,এক্স-রে, প্যাথলজি, আলট্রাসনো ও ব্লাড ব্যাংক, কভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহ ফি, অ্যাম্বুলেন্স, ইসিজি, কেবিন ও পেয়িং বেড ফিসহ বিভিন্ন খাত থেকে পাওয়া আয় জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের আয় চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখায় জমা দিতে হয়। যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। কিন্তু বর্তমান হিসাবরক্ষক হাসপাতা’লে যোগদানের পর কোনো অর্থ জমা দেননি বলে অ’ভিযোগ উঠেছে।






অ’ভিযোগ উঠেছে, হিসাবরক্ষক সদর হাসপাতা’লে যোগদানের পর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের ৪৫ লাখ টাকা এবং ২০২০-২০২১ অর্থবছরের ৯ মাসের ২৫ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেননি। তবে তিনি সোনালী ব্যাংকে এসব অর্থ জমা দেওয়ার ভু’য়া চালান দেখিয়েছেন।

অ’ভিযু’ক্ত হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম লাকি বলেন, কিছু টাকা জমা দিতে বাকি আছে তা এক সপ্তাহের মধ্যে দিয়ে দেব। তবে কত টাকা বাকি রয়েছে তা বলতে পারেননি। এর বেশি আর কিছু বলতে চাননি।






সদর হাসপাতা’লের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুর শাকুর বলেন, ইউজার ফি সঠিকভাবে ব্যাংকে জমা পড়ছে কি-না তা যাচাই করার জন্য গতকাল মঙ্গলবার সোনালী ব্যাংকে গিয়ে দেখি গত ২১ মাসে ৭০ লাখ টাকার এক টাকাও জমা পড়েনি। হিসাবরক্ষকের কাছ থেকে ব্যাংকের সই ও সিল স্বাক্ষরিত চালানগুলো ভুল।

নড়াইল সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ম্যানেজার মো. আবু সেলিম বলেন, সদর হাসপাতা’লের তত্ত্বাবধায়ক হাসপাতাল থেকে যেসব চালান নিয়ে ব্যাংকে এসেছিলেন তার কোনোটিই ব্যাংকে জমা পড়েনি।

About অনলাইন ডেস্ক

View all posts by অনলাইন ডেস্ক →

Leave a Reply

Your email address will not be published.