নাটোরের সেই অচিন ‘পাখির’ পরিচয় ‘পাওয়া গেছে’

নাটোরের নলডাঙ্গা গ্রামের আলোচিত সেই ‘অচিন পাখির’ পরিচয় জানা গেছে। পাখিটি কোনো অচেনা পাখি নয়। সাধারণ মানুষের আবেগ পুঁজি করে কোনো বিশেষ মহল পাখিটিকে ‘অচিন পাখি’ বলে প্রচার করেছে বলে মনে করছেন দেশের পাখি বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে ওয়াইল্ড ফটোগ্রাফার ও পাখি বিশেষজ্ঞ আদনান আজাদ আসিফ বলেন, ‘‘বিষয়টি আমারও নজরে এসেছে। ওই পাখিটি কোনো অপরিচিত পাখি নয়। ওটা ‘কলার্ড ডোভ’ বা ‘কণ্ঠি ঘুঘু’। পাখিটি আমাদের দেশীয় পাখি। দেশের সব জায়গাতেই দেখা যায়। হতে পারে বিশেষ উদ্দেশ্য থাকায় পাখিটিকে ‘অচিন পাখি’ বলা হয়েছে।’’






এই পাখি বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, ‘পাখিটির মুখে এক টুকরো কাগজে আরবি ও বাংলা লেখা কিছু পাওয়া যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এটা অলৌকিক কিছু নয়। আসলে কেউ কাগজে কিছু একটা লিখে পাখিটির মুখে আঠা জাতীয় কিছু দিয়ে আটকে দিয়েছিল বলেই মনে হচ্ছে। কারণ পাখিটি কারো দেওয়া চিরকুট এভাবে অন্যের কাছে পৌঁছে দেবে এমন ভাবা ঠিক নয়। এ ধরনের ঘটনা সিনেমাতেই হয়।’

বার্ড বাংলাদেশের মহাসচিব শামীম আলী চৌধুরীও পাখিটি সম্পর্কে একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো স্বার্থান্বেষী মহল পাখিটির মুখে কাগজ লাগিয়ে কাউকে ভয় দেখাতে চেয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। এক শ্রেণীর মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু পীর, অন্ধ পীর বা এ ধরনের বিভিন্ন নাম নিয়ে আজগুবি বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকে। পানিপড়া, যাদুর ছোঁয়ায় যে কোনো সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে অর্থ উপর্জন করার ঘটনাও আমরা প্রায়ই দেখি। নাটোরের ঘটনাটিও সেরকম কিছু।’






উল্লেখ্য গত ৩১ মে সোমবার দুপুরে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক সন্তোষ প্রামাণিকের বাড়ির টিনের চালায় এসে বসে একটি পাখি। পাখিটি দেখতে কবুতরের মতো হলেও আসলে কী পাখি, তা কেউ বলতে পারেননি। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পাখিটির ঠোঁটে ছিল আরবি ও বাংলা অক্ষরে লেখা চিরকুট।

কৃষক সন্তোষ প্রামাণিকের স্ত্রী মানিকজান পাখিটিকে প্রথমে দেখতে পান। খাবার দিলে পাখিটি টিনের চালা থেকে মাটিতে নেমে আসে। পরে পাখিটিকে ধরে খাঁচায় বন্দি করা হয়। এ সময় পাখির ঠোঁটে আরবি ও বাংলা অক্ষরে হাতে লেখা কাগজের চিরকুট দেখতে পাওয়া যায় বলে প্রচার করা হয়।

About অনলাইন ডেস্ক

View all posts by অনলাইন ডেস্ক →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *